বেইজিং সময় ১১ অক্টোবর রাতে প্রিমিয়ার লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডে দুই শক্তিশালী দলের লড়াইয়ে ঘরের মাঠে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হয় লিভারপুল। প্রথম ৪৫ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে গ্রাভেনবার্খের লাল কার্ডই হয়ে ওঠে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। এরপর হালান্ড, ডোকু ও শেরকি একটি করে গোল করেন, শেষ পর্যন্ত সিটি ৩-০ গোলে লিভারপুলকে বিধ্বস্ত করে। প্রিমিয়ার লিগের শুরু থেকে টানা ৬ জয়ে এককভাবে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে সিটি।

images/01.jpg

ম্যাচের আকর্ষণ

images/02.jpg

অফ-সিজনে স্লটকে বরখাস্ত করে ইরাওলাকে দলের দায়িত্ব দেয় লিভারপুল, কিন্তু নতুন মৌসুমে তাদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। প্রথম পাঁচ রাউন্ড শেষে তারা পেয়েছে মাত্র ২ জয় ও ৩ ড্র। অন্যদিকে কোচ বদলানো ম্যানচেস্টার সিটি মারেস্কার নেতৃত্বে সবাইকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে। মৌসুম শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগে একমাত্র শতভাগ জয়ী দল তারাই, পয়েন্ট টেবিলেও শীর্ষে।

গত মৌসুমে লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটি মোট ৩ বার মুখোমুখি হয়েছিল, প্রতিবারই শেষ হাসি হেসেছে স্কাই ব্লুজরা। এর মধ্যে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল এফএ কাপে, যেখানে সিটি ৪-০ গোলে লিভারপুলকে বিধ্বস্ত করেছিল। এবার আবার মুখোমুখি লড়াইয়ে ঘরের মাঠের সুবিধা নিয়ে লিভারপুল প্রতিশোধ নিতে পারবে কি না এবং সিটির বিপক্ষে টানা হারের ধারা থামাতে পারবে কি না, সেটাই ছিল সমর্থকদের সবচেয়ে বড় আগ্রহের বিষয়।

মূল মুহূর্ত

৬২তম মিনিটে পেছন থেকে ডোকুকে ফেলে দিয়ে ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন গ্রাভেনবার্খ, প্রধান রেফারি তাঁকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। ঘরের মাঠে খেলা লিভারপুল একজন কম নিয়ে খেলার প্রতিকূল অবস্থায় পড়ে।

৬৫তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ডোকু বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকে শট নিলে তা আটকে যায়, ফিরতি বলে গোল করেন হালান্ড। লিভারপুলের বিপক্ষে টানা ৪ ম্যাচেই গোল পেলেন তিনি, সিটি ১-০ গোলে এগিয়ে যায়।

৬৮তম মিনিটে ভেতরে ঢুকে দূরের পোস্টে বাঁকানো শট নেন ডোকু, বল সোজা কোণে ঢুকে যায়, আলিসনের কিছুই করার ছিল না। সিটির ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২ গোলে।

৭৮তম মিনিটে সিটির টানা ওয়ান-টাচ পাসের পর বক্সের ভেতরে ফ্রিম্পংকে কাটিয়ে নিচু শটে গোল করেন শেরকি, ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোর দাঁড়ায় ৩-০।

ম্যাচের পর্যালোচনা

৪র্থ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বাইলাইনে পৌঁছে ক্রস দেন কেরকেজ, দূরের পোস্টে হেডে গোল করেন মুনিয়োস। তবে ক্রসের আগেই বল মাঠের বাইরে চলে যাওয়ায় গোলটি বাতিল হয়।

১২তম মিনিটে মাঠে দুই দলের মধ্যে বিবাদ বাধে, তবে প্রধান রেফারি দ্রুত তা থামিয়ে দেন।

১৯তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে কর্নার নেন এনজো, হেডের লড়াইয়ে যান হালান্ড, কিন্তু ডিফেন্ডার বল সরিয়ে দেন।

৩০তম মিনিটে দিয়াস লম্বা পাসে বক্সে বল উঁচিয়ে দেন, এনজো বল পেলেও অফসাইডের বাঁশি বাজে।

৩৩তম মিনিটে বড় বক্সের সামনে থেকে দূরপাল্লার শট নেন মুনিয়োস, তবে দোন্নারুম্মা সহজেই বল লুফে নেন।

৩৫তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে এনজোর দূরপাল্লার শট লক্ষ্যে ছিল, ঝাঁপিয়ে তা ঠেকিয়ে দেন আলিসন।

৩৯তম মিনিটে বলের লড়াইয়ে ফাউল করেন ম্যাক অ্যালিস্টার, দুই দলের মধ্যে আবারও বিবাদ বাধে।

৪২তম মিনিটে গোলমুখে ঝুঁকি নিয়ে খেলেন দোন্নারুম্মা, শান্ত মাথায় প্রেস করতে আসা লিভারপুল খেলোয়াড়কে কাটিয়ে যান।

৪৮তম মিনিটে সিটির বক্সে ঢুকে পড়েন কুমাস, কিন্তু সরু কোণ থেকে তাঁর শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান দোন্নারুম্মা।

৪৯তম মিনিটে গ্রাভেনবার্খের দূরপাল্লার শটও দোন্নারুম্মার দশ আঙুলের দেয়াল ভাঙতে পারেনি।

ম্যাচের পরিসংখ্যান

খেলোয়াড়দের রেটিং

দুই দলের শুরুর একাদশ

লিভারপুলের শুরুর একাদশ: ১-আলিসন, ৩৩-আরাউহো, ৪-ভ্যান ডাইক, ৫-জাকে, ৬-কেরকেজ, ১০-ম্যাক অ্যালিস্টার, ৩৮-গ্রাভেনবার্খ, ২৩-ভিক্টর মুনিয়োস, ৭-ভির্টজ, ২৯-বারকোলা, ৬৭-লুই কুমাস

ম্যানচেস্টার সিটির শুরুর একাদশ: ১-দোন্নারুম্মা, ৩৩-ও'রাইলি, ৬-গেহি, ৩-রুবেন দিয়াস, ২৭-নুনেস, ৫-এলিয়ট অ্যান্ডারসন, ১৭-এনজো ফার্নান্দেজ, ৭-এনদিয়ায়ে, ১০-শেরকি, ৪২-সেমেনিও, ৯-হালান্ড

ঠিকানা, শর্ত, রসিদ ও দায়িত্বশীল সীমা যাচাই করে এগোনো ভালো।